Eid ul-Fitr Holiday

Bangladesh • March 23, 2026 • Monday

79
Days
16
Hours
00
Mins
21
Secs
until Eid ul-Fitr Holiday
Asia/Dhaka timezone

Holiday Details

Holiday Name
Eid ul-Fitr Holiday
Country
Bangladesh
Date
March 23, 2026
Day of Week
Monday
Status
79 days away
About this Holiday
Eid ul-Fitr Holiday is a optional holiday in Bangladesh

About Eid ul-Fitr Holiday

Also known as: ঈদুল ফিতর

বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর: আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব এবং আধ্যাত্মিকতার মহোৎসব

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি এদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতিফলন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে এই উৎসব পালিত হয়। এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক মহান পুরস্কার। বাংলাদেশে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে যে ব্যাপক প্রস্তুতি এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়, তা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনন্য। গ্রাম থেকে শহর, ধনী থেকে দরিদ্র—সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে এক অভিন্ন সুতায়।

ঈদুল ফিতরের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে ত্যাগ এবং আত্মশুদ্ধির মাঝে। পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে নিজের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। এই দীর্ঘ সাধনার সফল সমাপ্তি ঘটে ঈদের চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে 'চাঁদ রাত' বা ঈদের আগের রাতটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। যখন পশ্চিম আকাশে সরু একফালি নতুন চাঁদ দেখা যায়, তখন চারদিকে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। পাড়ায় পাড়ায় গান বাজে, আতশবাজি ফোটানো হয় এবং শুরু হয় উৎসবের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এই দিনটি আমাদের শেখায় কীভাবে ধৈর্য ধারণ করতে হয় এবং কীভাবে অভাবী মানুষের প্রতি সহমর্মী হতে হয়।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে ঈদ মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে কর্মরত লক্ষ লক্ষ মানুষ ঈদের ছুটিতে নিজ নিজ গ্রামে মা-বাবা এবং আপনজনদের কাছে ফিরে যান। এই যাত্রা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হলেও প্রিয়জনের মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষা সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। ঈদের এই মিলনমেলা বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। নতুন পোশাক কেনা, সেমাই-চিনি এবং বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহের মাধ্যমে বাজারগুলো উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। মূলত, ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এবং সামাজিক সংহতির বার্তা নিয়ে আসে।

2026 সালে ঈদুল ফিতর কবে?

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের তারিখ মূলত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এই উৎসবের দিন নির্ধারিত হয়। বর্তমান জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, 2026 সালে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাব্য সময় নিচে দেওয়া হলো:

ঈদের দিন: Monday তারিখ: March 23, 2026 বাকি আছে: আর মাত্র 79 দিন

এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলামি বিধান অনুযায়ী চাঁদ দেখা সাপেক্ষে তারিখ একদিন আগে বা পরে হতে পারে। বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি প্রতি বছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সভায় বসে চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে এবং চূড়ান্ত ঘোষণা প্রদান করে। যদি ২০শে মার্চ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায়, তবে ২১শে মার্চ ঈদ পালিত হবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে মহাকাশ গবেষণার তথ্যানুযায়ী আগে থেকেই একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা থাকে যা সাধারণ মানুষের পরিকল্পনা করতে সুবিধা দেয়।

ঈদুল ফিতরের ইতিহাস ও তাৎপর্য

ঈদুল ফিতর প্রবর্তনের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন এবং তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, তখন তিনি দেখেন যে মদিনার মানুষ বছরে দুটি বিশেষ দিনে উৎসব পালন করে। তিনি তখন মুসলমানদের জন্য পবিত্র এবং অর্থবহ দুটি উৎসবের ঘোষণা দেন—একটি ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি ঈদুল আজহা। 'ফিতর' শব্দের অর্থ হলো রোজা ভাঙা বা সমাপ্তি ঘটানো। অর্থাৎ দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসার দিনই হলো ঈদুল ফিতর।

এই উৎসবের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। রমজান মাসে মুমিন বান্দারা যে ইবাদত-বন্দেগি করেছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করেছেন, তার শুকরিয়া হিসেবে এই দিনটি উদযাপিত হয়। এছাড়া ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত। ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই 'ফিতরা' বা সদকাতুল ফিতর আদায় করা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যেন ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে তা নিশ্চিত করা হয়। এটি ইসলামের সাম্যবাদী দর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের ঐতিহাসিক বিবর্তনও লক্ষ্য করার মতো। মুঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসনামল এবং বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে ঈদের উদযাপনে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। অতীতে ঢাকার নবাবরা হাতি সাজিয়ে মিছিল বের করতেন এবং বড় বড় ভোজের আয়োজন করতেন। আধুনিক বাংলাদেশে সেই জৌলুস হয়তো ভিন্ন রূপ নিয়েছে, কিন্তু মানুষের আবেগ এবং ধর্মীয় নিষ্ঠা অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাংলাদেশে ঈদ উদযাপনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি

বাংলাদেশের ঈদ উদযাপন বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবং বৈচিত্র্যময়। এখানে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয় রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই।

১. চাঁদ রাত (Chand Raat)

ঈদের আগের রাতটিকে বাংলাদেশে 'চাঁদ রাত' বলা হয়। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সাথে সাথেই রেডিও-টেলিভিশনে বেজে ওঠে কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান— "ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ"। এই গানটি ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের ঈদ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। তরুণীরা হাতে মেহেদি পরে নকশা করে, ছেলেরা শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে স্পিকারে গান বাজানো হয় এবং এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

২. ঈদের নামাজ ও ঈদগাহ

ঈদের দিন সকালে পুরুষরা গোসল করে নতুন পোশাক (সাধারণত পাঞ্জাবি-পায়জামা ও টুপি) পরে আতর মেখে ঈদগাহের দিকে রওনা হন। বাংলাদেশে খোলা মাঠে বা বড় ময়দানে ঈদের নামাজ পড়ার প্রচলন সবচেয়ে বেশি। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান বা দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান বাংলাদেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতগুলোর জন্য পরিচিত, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর একে অপরের সাথে কোলাকুলি করা এবং 'ঈদ মোবারক' জানানো এদেশের এক অবিচ্ছেদ্য সংস্কৃতি।

৩. সেমাই ও ফিরনি: মিষ্টিমুখের উৎসব

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরকে 'মিষ্টি ঈদ' হিসেবেও অভিহিত করা হয়। ঈদের নামাজ থেকে ফিরে প্রথমেই সেমাই বা ফিরনি খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। দুধ-সেমাই, লাচ্ছা সেমাই এবং জর্দা সেমাই—এই তিন ধরনের সেমাই বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরেই তৈরি হয়। এছাড়া বিরিয়ানি, পোলাও, রোস্ট এবং রেজালা তো দুপুরের খাবারের প্রধান আকর্ষণ। মেহমানদারি করা এদেশের মানুষের মজ্জাগত স্বভাব, আর ঈদে তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

৪. সালামি বা ঈদি (Salami/Eidi)

ঈদের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো বড়দের কাছ থেকে ছোটদের 'সালামি' বা নগদ টাকা উপহার নেওয়া। ঈদের নামাজ শেষে ছোটরা বড়দের সালাম করে এবং বিনিময়ে সালামি পায়। এই প্রথাটি শিশুদের মাঝে ঈদকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। নতুন মচমচে নোটের সালামি পাওয়ার আনন্দ বর্ণনাতীত।

৫. নতুন পোশাক ও সাজসজ্জা

ঈদ মানেই নতুন পোশাক। বাংলাদেশে ঈদকে কেন্দ্র করে টেক্সটাইল ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে বিশাল ব্যবসা হয়। সুতি, সিল্ক বা জামদানি শাড়ি, সালোয়ার কামিজ এবং ছেলেদের জন্য বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি কেনা হয়। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য নতুন কাপড় কেনা এদেশের একটি সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। এমনকি সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্রদেরও নতুন কাপড় দান করা হয়।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল গতিশীলতা নিয়ে আসে। রমজান মাস জুড়ে কেনাকাটার যে ধুম পড়ে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের সিংহভাগ দখল করে থাকে। পোশাক শিল্প, জুতা, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিক্স এবং খাদ্যপণ্যের বাজারে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার লেনদেন হয়। এছাড়া পরিবহন খাতেও এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলে। বাস, ট্রেন এবং লঞ্চে করে কোটি মানুষের যাতায়াত দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেললেও এটি অর্থনীতির চাকা সচল রাখে।

সামাজিকভাবে ঈদ মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর করে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে। গ্রামেগঞ্জে বিভিন্ন মেলা বসে, যেখানে মাটির খেলনা, হস্তশিল্প এবং নাগরদোলার আয়োজন থাকে। এই মেলাগুলো গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য অংশ। এছাড়া প্রবাসীরা এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠান, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

সরকারি ছুটি ও জনজীবন

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণত তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই ছুটি কম-বেশি হতে পারে।

প্রতিষ্ঠান বন্ধ: এই সময়ে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, সরকারি এবং বেসরকারি অফিস আদালত বন্ধ থাকে। জরুরি সেবা: হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং কিছু জরুরি সংবাদমাধ্যম খোলা থাকে। পরিবহন: ঈদের ছুটির সময় গণপরিবহন সীমিত পরিসরে চললেও আন্তঃজেলা বাস ও ট্রেন সার্ভিস অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে।

  • বাজার ও দোকানপাট: ঈদের দিন এবং তার পরের দিন শপিং মল ও বড় দোকানগুলো বন্ধ থাকে, তবে মুদি দোকান বা ছোট দোকানগুলো বিকেলের পর থেকে খুলতে শুরু করে।
ঈদের ছুটিতে ঢাকা শহর এক শান্ত রূপ ধারণ করে। জনাকীর্ণ রাস্তাগুলো ফাঁকা হয়ে যায়, যা বছরের অন্য সময়ে কল্পনাও করা যায় না। মানুষ কর্মব্যস্ত জীবন থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পায়।

পর্যটন ও বিনোদন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদের ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করার প্রবণতা বেড়েছে। কক্সবাজার, সিলেট, সাজেক ভ্যালি এবং সুন্দরবনের মতো জায়গাগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া এখন আধুনিক ঈদ উদযাপনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ নাটক, সিনেমা এবং ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান (যেমন: ইত্যাদি) প্রচারিত হয়, যা ঘরে বসে থাকা মানুষের বিনোদনের প্রধান উৎস।

উপসংহার

ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের মানুষের জন্য কেবল একটি দিন নয়, এটি একটি অনুভূতি। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়, কীভাবে অন্যের দুঃখ ভাগ করে নিতে হয়। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে যে ধৈর্য ও সংযমের শিক্ষা আমরা পাই, তা সারা বছর আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হোক—এটাই ঈদের মূল প্রার্থনা।

2026 সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও সমৃদ্ধি। যদিও আরও 79 দিন বাকি আছে, তবুও এখন থেকেই শুরু হোক উৎসবের প্রস্তুতি। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করে আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর ঈদ উদযাপন করি।

ঈদ মোবারক!

Frequently Asked Questions

Common questions about Eid ul-Fitr Holiday in Bangladesh

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর সম্ভবত Monday, March 23, 2026 তারিখে পালিত হবে। বর্তমান সময় থেকে এই উৎসবের আর মাত্র 79 দিন বাকি রয়েছে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই তারিখটি সম্পূর্ণভাবে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। যদি চাঁদ একদিন আগে বা পরে দেখা যায়, তবে তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী এই তারিখটি নির্ধারিত হলেও স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে থাকেন।

হ্যাঁ, ঈদুল ফিতর বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘতম সরকারি ছুটির দিন। এই উৎসব উপলক্ষে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে সমস্ত সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। এটি দেশের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হওয়ায় মানুষ তাদের পরিবারের সাথে সময় কাটানোর জন্য শহর ছেড়ে গ্রামে পাড়ি জমায়, ফলে এই সময়ে দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

ঈদুল ফিতর হলো পবিত্র রমজান মাসের দীর্ঘ এক মাস রোজা বা সিয়াম সাধনা এবং আত্মশুদ্ধির সমাপ্তি উৎসব। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দিনটি মূলত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য উদযাপন করা হয়, যিনি বিশ্বাসীদের পুরো মাস জুড়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বর্জন করে ধৈর্য ও সংযম পালনের শক্তি দান করেছেন। এটি আধ্যাত্মিক পবিত্রতা অর্জন, নিজের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করা এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের একটি বিশেষ মাধ্যম।

বাংলাদেশে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার রাতটিকে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে 'চাঁদ রাত' হিসেবে পালন করা হয়। যখন রেডিও বা টেলিভিশনে চাঁদ দেখার সংবাদ নিশ্চিত করা হয়, তখন সারা দেশে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। এটি উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা। এই রাতে মানুষ শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করে, মেহেদি দিয়ে হাত সাজায় এবং একে অপরকে 'ঈদ মোবারক' জানিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এটি বাংলাদেশি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য এবং আনন্দময় অংশ।

ঈদের দিন সকালে পুরুষরা গোসল করে নতুন বা পরিষ্কার পোশাক (সাধারণত পাঞ্জাবি-পায়জামা) পরে ঈদগাহ বা মসজিদে ঈদের বিশেষ নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন। এই নামাজ সাধারণত খোলা ময়দানে বড় জামাতে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের আগে 'ফিতরা' বা বাধ্যতামূলক দান করা হয় যাতে গরিব মানুষেরাও উৎসবে শামিল হতে পারে। নামাজ শেষে সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেন, যা বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃশ্য।

বাংলাদেশে ঈদের উৎসব মানেই সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। দিনটি শুরু হয় মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন সেমাই বা ফিরনি খাওয়ার মাধ্যমে। পরিবারের সবাই মিলে একসাথে বসে বিশেষ দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন, যেখানে পোলাও, বিরিয়ানি, কোরমা, রেজালা এবং বিভিন্ন ধরনের মাংসের পদ থাকে। রোজা রাখার পর এটিই প্রথম দিন যখন দিনের বেলা খাবার খাওয়া বৈধ, তাই এই ভোজ বা 'ফিস্ট' উৎসবের একটি প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঈদুল ফিতরে দাতব্য কাজ বা 'যাকাত আল-ফিতর' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা যা ঈদের নামাজের আগেই গরিব ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করতে হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি মানুষ, বিশেষ করে যারা অভাবী, তারা যেন খাবারের কষ্ট না পায় এবং সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে। এটি কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সহমর্মিতা প্রদর্শনের একটি কার্যকর মাধ্যম যা মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে।

ঈদের সময় বাংলাদেশে ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য পরামর্শ হলো, এই সময়ে যাতায়াতের অগ্রিম পরিকল্পনা করা। যেহেতু প্রচুর মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামে যায়, তাই বাস, ট্রেন এবং লঞ্চে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। অধিকাংশ দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ ঈদের দিন এবং তার পরের দিন বন্ধ থাকতে পারে। তবে পর্যটকরা স্থানীয়দের আতিথেয়তা উপভোগ করার এক দারুণ সুযোগ পান। অনেক বাংলাদেশি পরিবার পর্যটকদের তাদের বাড়িতে দাওয়াত দিতে পছন্দ করেন, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে খুব কাছ থেকে দেখার একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা হতে পারে।