Eid ul-Fitr Holiday

Bangladesh • March 22, 2026 • Sunday

78
Days
16
Hours
00
Mins
20
Secs
until Eid ul-Fitr Holiday
Asia/Dhaka timezone

Holiday Details

Holiday Name
Eid ul-Fitr Holiday
Country
Bangladesh
Date
March 22, 2026
Day of Week
Sunday
Status
78 days away
Weekend
Falls on weekend
About this Holiday
Eid ul-Fitr Holiday is a government holiday in Bangladesh

About Eid ul-Fitr Holiday

Also known as: ঈদুল ফিতর

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর: আনন্দ, উৎসব এবং ঐতিহ্যের মহোৎসব

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে এই উৎসব উদযাপিত হয়। এটি এমন এক দিন যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ভালোবাসা এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বয়ে আনে। বাংলাদেশে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বইতে থাকে আনন্দের জোয়ার। 'ফিতর' শব্দের অর্থ হলো রোজা ভাঙা বা সমাপ্ত করা। মাসব্যাপী আত্মশুদ্ধি এবং সংযমের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের শতকরা ৯০ ভাগের বেশি মানুষ মুসলিম হওয়ায় এটি বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরা। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে এক কাতারে শামিল হওয়া। ঈদের এই দিনে চারদিকে এক পবিত্র এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সকালে নতুন জামাকাপড় পরে ঈদগাহে যাওয়া, একে অপরের সাথে কোলাকুলি করা এবং ঘরে ঘরে সেমাই ও মিষ্টির সুবাস—এই সবকিছু মিলিয়ে এক অনন্য আবহ তৈরি হয় যা বিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

ঈদুল ফিতরের এই আনন্দ কেবল উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। রমজান মাসের রোজা পালনের মাধ্যমে একজন মানুষ তার নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করে এবং দরিদ্র মানুষের ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করতে শেখে। ঈদের দিন জাকাতুল ফিতর বা ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের উৎসবের অংশীদার করা হয়। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং উৎসবপ্রিয় হওয়ায় এই দিনটিকে ঘিরে তাদের প্রস্তুতি থাকে চোখে পড়ার মতো। সপ্তাহখানেক আগে থেকেই শুরু হয় কেনাকাটা এবং নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতা। ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহর থেকে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে ফিরে যান পরিবারের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে।

2026 সালে ঈদুল ফিতর কবে?

২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর পালনের জন্য পুরো বাংলাদেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, হিজরি ক্যালেন্ডার বা চান্দ্র মাসের ওপর ভিত্তি করে ঈদের তারিখ নির্ধারিত হয়, তাই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত তারিখ এক দিন আগে বা পরে হতে পারে।

বর্তমান জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা এবং তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে 2026 সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:

ঈদের সম্ভাব্য তারিখ: March 22, 2026 ঈদের দিন: Sunday এখন থেকে বাকি: মাত্র 78 দিন

বাংলাদেশে ঈদের তারিখ নির্ধারণের জন্য 'জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি' রয়েছে। রমজান মাসের ২৯তম দিনে মাগরিবের নামাজের পর এই কমিটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সভায় বসে এবং দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে কি না তা নিশ্চিত করে। যদি চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিন ঈদ পালিত হয়। আর যদি চাঁদ দেখা না যায়, তবে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা হয় এবং তার পরের দিন ঈদ উদযাপিত হয়। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে ২০শে মার্চ শুক্রবার বা ২১শে মার্চ শনিবার ঈদ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও সরকারিভাবে March 22, 2026, Sunday দিনটিকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঈদুল ফিতরের ইতিহাস এবং প্রেক্ষাপট

ঈদুল ফিতরের সূচনা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে। ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে মদিনার মানুষ বছরে দুটি উৎসব পালন করে (নওরোজ ও মেহেরজান)। তিনি তখন ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের জন্য এর চেয়েও উত্তম দুটি উৎসবের দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন—একটি হলো ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি ঈদুল আজহা।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো রোজা বা সাওম। রমজান মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য হেদায়েত। এই পবিত্র মাসে দিনের বেলা পানাহার থেকে বিরত থেকে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। যখন এই পবিত্র মাসটি শেষ হয়, তখন আনন্দ উদযাপনের জন্য ঈদুল ফিতর পালিত হয়। এটি মূলত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন যে, তিনি আমাদেরকে পুরো মাস রোজা রাখার তৌফিক দিয়েছেন।

বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার এবং প্রসারের সাথে সাথে এই উৎসবের রূপ আরও রঙিন হয়েছে। সুলতানি এবং মুঘল আমল থেকেই বাংলায় ঘটা করে ঈদ পালন করা হতো। ঢাকার নায়েব-নাজিমরা হাতির পিঠে চড়ে ঈদ মিছিলে বের হতেন। সেই ধারাবাহিকতা আজও বজায় আছে, তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উদযাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে। বর্তমানে এটি কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশে ঈদের প্রস্তুতি: কেনাকাটা এবং চাঁদ রাত

বাংলাদেশে ঈদের উৎসব শুরু হয় কার্যত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই। ঈদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল চাঞ্চল্য দেখা দেয়।

কেনাকাটার ধুম

ঈদের কেনাকাটা বাংলাদেশের মানুষের জীবনের একটি বড় অংশ। ঢাকা শহরের নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার ছোট দোকানগুলো ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে। পরিবারের ছোটদের জন্য নতুন জামা কেনা বাধ্যতামূলক। বড়রাও নিজেদের জন্য এবং আত্মীয়-স্বজনের জন্য উপহার কেনেন। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ এবং লুঙ্গি—এই পোশাকগুলো ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। বিশেষ করে দেশি তাঁতের শাড়ি এবং হাতের কাজের পাঞ্জাবির চাহিদা থাকে তুঙ্গে।

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা

বাংলাদেশের ঈদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো 'ঘরমুখো মানুষের যাত্রা'। কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে দেশের একটি বড় অংশ মানুষ রাজধানী ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে বাস করে। কিন্তু ঈদের আনন্দ তারা পরিবারের সাথেই ভাগ করতে চায়। তাই ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে শুরু হয় উপচে পড়া ভিড়। শত কষ্ট সহ্য করেও মানুষ গ্রামে ফিরে যায় মা-বাবা এবং প্রিয়জনদের মুখ দেখার জন্য। এই সময় ঢাকার রাস্তাগুলো অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায় এবং গ্রামগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

চাঁদ রাত (Chand Raat)

ঈদের আগের রাতকে বাংলাদেশে 'চাঁদ রাত' বলা হয়। যখন আকাশে সরু বাঁকা চাঁদ দেখা যায়, তখন চারদিকে আনন্দের হুল্লোড় পড়ে যায়। রেডিও এবং টেলিভিশনে বেজে ওঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই বিখ্যাত গান—
"ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ..."*। চাঁদ রাতে তরুণীরা হাতে মেহেদি পরে, ছোটরা আতশবাজি ফোটায় এবং শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। মায়েরা ব্যস্ত থাকেন পরের দিনের রান্নাবান্নার প্রস্তুতি নিয়ে। এই রাতটি উত্তেজনার এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের রাত।

ঈদের দিনের আনুষ্ঠানিকতা: সকাল থেকে রাত

ঈদের দিনটি শুরু হয় খুব ভোরে। প্রতিটি বাড়িতেই এক আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে।

সকালের প্রস্তুতি এবং ঈদগাহ

ঈদের দিন সকালে পুরুষরা গোসল করে সুগন্ধি (আতর) মেখে নতুন পাঞ্জাবি-টুপি পরে ঈদগাহের দিকে রওনা হন। যাওয়ার আগে হালকা কিছু মিষ্টি মুখ করা সুন্নাত, সাধারণত সেমাই বা খোরমা খাওয়া হয়। বাংলাদেশর প্রতিটি গ্রামে এবং শহরের প্রতিটি পাড়ায় খোলা মাঠে বা মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার 'জাতীয় ঈদগাহ' এবং কিশোরগঞ্জের 'শোলাকিয়া ঈদগাহ' বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুটি ঈদের জামাত। শোলাকিয়ায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর খুতবা পাঠ করা হয় এবং দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য দোয়া করা হয়।

কোলাকুলি এবং শুভেচ্ছা বিনিময়

নামাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ঈদের আসল আনন্দ। পরিচিত-অপরিচিত সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন এবং 'ঈদ মোবারক' বলে শুভেচ্ছা জানান। এটি ভেদাভেদ ভোলার এক অনন্য দৃশ্য। ছোটরা বড়দের সালাম করে এবং বিনিময়ে পায় 'সালামি' বা 'ঈদি' (নগদ টাকা)। শিশুদের জন্য ঈদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এই সালামি সংগ্রহ করা।

খাবারের আয়োজন: সেমাই এবং বিরিয়ানি

বাংলাদেশি ঈদে ঐতিহ্যবাহী খাবারের কোনো বিকল্প নেই। ঈদের সকালের প্রধান খাবার হলো 'সেমাই'। দুধ সেমাই বা লাচ্ছা সেমাই ছাড়া বাংলাদেশের ঈদ অপূর্ণ। এছাড়া ফিরনি, জর্দা এবং বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা হয়। দুপুরের খাবারে সাধারণত পোলাও, বিরিয়ানি, চিকেন রোস্ট, গরুর মাংসের রেজালা বা খাসির মাংসের আয়োজন থাকে। মেহমানদের আপ্যায়ন করা বাংলাদেশের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঈদের দিন যে কেউ যে কারো বাড়িতে গেলে তাকে অবশ্যই মিষ্টি বা ভারি খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

সামাজিক মিলনমেলা

বিকেলের দিকে মানুষ আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুদের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বিনোদন কেন্দ্র যেমন পার্ক, চিড়িয়াখানা এবং সিনেমা হলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকে। শহর এলাকায় বর্তমানে অনেকে রেস্টুরেন্টে গিয়েও খাবার খান। তবে গ্রামীণ মেলা বা 'ঈদ মেলা' হলো বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য। গ্রামের মেলায় নাগরদোলা, মাটির খেলনা এবং নানারকম খাবারের দোকান বসে, যা শিশুদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

জাকাতুল ফিতর: আর্তমানবতার সেবা

ইসলাম ধর্মের শিক্ষা অনুযায়ী, ঈদের আনন্দের ভাগীদার যেন গরিব-দুঃখীরাও হতে পারে, সেজন্য 'ফিতরা' বা 'জাকাতুল ফিতর' প্রদান করা বাধ্যতামূলক। এটি ঈদের নামাজের আগেই অভাবী মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে হয়। বাংলাদেশে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিম নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা খাদ্যদ্রব্য দান করেন। এর ফলে সমাজের অসহায় মানুষগুলোও নতুন কাপড় বা ভালো খাবারের সংস্থান করতে পারে। এই প্রথাটি সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা বাড়াতে সাহায্য করে।

২০২৬ সালে পর্যটক এবং প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

আপনি যদি ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের সময় বাংলাদেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

১. তারিখের অনিশ্চয়তা: আগেই বলা হয়েছে, ঈদ পুরোপুরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ২০শে মার্চ থেকে ২২শে মার্চের মধ্যে যেকোনো দিন ঈদ হতে পারে। তাই আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা কিছুটা নমনীয় রাখুন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বা মসজিদের ঘোষণা লক্ষ্য করুন।

২. পরিবহন ব্যবস্থা: ঈদের সময় যাতায়াত করা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। বাস, ট্রেন এবং লঞ্চের টিকিট কয়েক সপ্তাহ আগেই শেষ হয়ে যায়। রাস্তাঘাটে প্রচণ্ড যানজট থাকতে পারে। তবে ঈদের দিন এবং তার পরের দুদিন ঢাকার রাস্তা একদম ফাঁকা থাকে, যা শহর ঘোরার জন্য উপযুক্ত সময়।

৩. ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ: ঈদের সরকারি ছুটিতে ব্যাংক, অফিস-আদালত এবং বেশিরভাগ বড় শপিং মল বন্ধ থাকে। তবে বড় হোটেল এবং জরুরি সেবা (হাসপাতাল, ফার্মেসি) খোলা থাকে। কেনাকাটা করতে চাইলে ঈদের অন্তত তিন দিন আগেই সেরে ফেলুন।

৪. পোশাক ও শিষ্টাচার: ঈদের দিন সকালে ঈদগাহে যাওয়ার সময় বা জনসমক্ষে চলাফেরা করার সময় শালীন পোশাক পরা বাঞ্ছনীয়। পুরুষরা পাঞ্জাবি এবং মহিলারা সালোয়ার-কামিজ বা শাড়ি পরতে পারেন। আপনি যদি অমুসলিম হন, তবুও আপনি ঈদের আমন্ত্রণে অংশ নিতে পারেন। বাংলাদেশিরা অতিথি আপ্যায়নে অত্যন্ত আন্তরিক।

৫. আবহাওয়া: ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে আবহাওয়া সাধারণত উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকে। তাপমাত্রা ২৫° সেলসিয়াস থেকে ৩২° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। হালকা সুতির পোশাক পরিধান করা আরামদায়ক হবে। মাঝে মাঝে কালবৈশাখী ঝড় বা বৃষ্টি হতে পারে, তাই সাথে ছাতা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সরকারি ছুটি এবং কর্মব্যস্ততা

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণত তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে ২০২৬ সালে যদি ঈদ March 22, 2026 তারিখে হয়, তবে তার আগের এবং পরের দিন মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই সময় সমস্ত সরকারি, আধা-সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ ঈদ অবকাশ থাকে।

সংবাদপত্রগুলো এই সময় বিশেষ 'ঈদ সংখ্যা' প্রকাশ করে এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ নাটক, সিনেমা এবং ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান (যেমন: হানিফ সংকেতের 'ইত্যাদি') প্রচারিত হয়। ঈদের ছুটিতে শহরের কর্মব্যস্ত মানুষগুলো একটু বিশ্রামের সুযোগ পায় এবং মানসিক প্রশান্তি লাভ করে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর কেবল একটি দিন নয়, এটি একটি আবেগ। এটি ত্যাগের মহিমা, ধৈর্যের পরীক্ষা এবং অকৃত্রিম আনন্দের সংমিশ্রণ। ধনী-দরিদ্র, শহর-গ্রাম নির্বিশেষে এই উৎসব সবাইকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে। ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরও বাংলাদেশের মানুষের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি।

এখন থেকে মাত্র 78 দিন বাকি এই মাহেন্দ্রক্ষণের। প্রস্তুতি শুরু হোক এখন থেকেই, যাতে আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর এবং আনন্দময় ঈদ উদযাপন করতে পারি।

ঈদ মোবারক!

Frequently Asked Questions

Common questions about Eid ul-Fitr Holiday in Bangladesh

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর আগামী March 22, 2026 তারিখে পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ওই বছরের একটি Sunday। বর্তমানে এই উৎসবটি আসতে আরও 78 দিন বাকি আছে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, ঈদুল ফিতরের সঠিক তারিখটি রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়, যা অনেক সময় একদিন আগে বা পরে হতে পারে।

হ্যাঁ, ঈদুল ফিতর বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান এবং দীর্ঘতম সরকারি ছুটির দিন। সাধারণত এই উপলক্ষে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের মতো জরুরি সেবাগুলো চালু থাকে। ঈদের ছুটির সময় রাজধানী ঢাকা থেকে লাখ লাখ মানুষ তাদের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সাথে উৎসব কাটাতে ফিরে যান।

ঈদুল ফিতর শব্দের অর্থ হলো 'রোজা ভাঙার উৎসব'। এটি পবিত্র রমজান মাসের এক মাসব্যাপী ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিয়াম সাধনা বা রোজা রাখার সমাপ্তি চিহ্নিত করে। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম, যা আত্মশুদ্ধি এবং ধৈর্য অর্জনে সাহায্য করে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই উৎসবের প্রচলন করেন। এটি মূলত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন এবং রমজানের শিক্ষা অনুযায়ী গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানোর একটি বিশেষ সুযোগ। বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে এটি বছরের সবচেয়ে আনন্দদায়ক ধর্মীয় উৎসব।

ঈদের আগের রাতকে বাংলাদেশে 'চাঁদ রাত' বলা হয়। যখন আকাশে শাওয়াল মাসের সরু বাঁকা চাঁদ দেখা যায়, তখনই এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই রাতে বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত থাকে। তরুণীরা হাতে মেহেদি লাগায় এবং পরিবারের সবাই মিলে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে নিউ মার্কেট বা স্থানীয় বাজারগুলোতে ভিড় জমায়। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। পাড়ায় পাড়ায় মাইকে ঈদের গান বা হামদ-নাত বাজানো হয় এবং পরদিনের রান্নার প্রস্তুতি চলে।

ঈদের দিন সকালে পুরুষরা গোসল করে নতুন পোশাক বা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে ঈদগাহে (খোলা ময়দান) বা মসজিদে ঈদের বিশেষ নামাজ আদায় করতে যান। নামাজের আগে 'ফিতরা' বা দান করা বাধ্যতামূলক, যাতে দরিদ্ররাও উৎসবে শামিল হতে পারে। নামাজ শেষে সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন এবং 'ঈদ মোবারক' জানিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বাড়িতে ফিরে তারা সেমাই, ফিরনি এবং বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার দিয়ে দিনটি শুরু করেন। এরপর গুরুজনদের সালাম করে দোয়া ও 'সালামি' বা 'ঈদি' (উপহারের টাকা) গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশে ঈদের খাবারের প্রধান আকর্ষণ হলো মিষ্টি জাতীয় খাবার। বিশেষ করে দুধ-সেমাই, লাচ্ছা সেমাই এবং ফিরনি ঘরে ঘরে তৈরি করা হয়। দুপুরের খাবারে সাধারণত পোলাও, বিরিয়ানি, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস বা খাসির মাংসের রেজালা এবং কাবাব পরিবেশন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াত করার সময় মিষ্টি ও নানা পদের নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করাটা এদেশের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। অনেক পরিবারে এই উৎসব দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং নানা পদের খাবারের আয়োজন চলতে থাকে।

ঈদের সময় বাংলাদেশে আসা পর্যটকদের জন্য এটি এদেশের সংস্কৃতি দেখার চমৎকার সুযোগ। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। ঈদের দিন সকালে নামাজের সময় ঈদগাহের আশেপাশে মার্জিত বা ঢিলেঢালা পোশাক পরা ভালো। নামাজ চলাকালীন সামনে দিয়ে হাঁটাচলা না করাই শ্রেয়। এই সময় ঢাকা শহর অনেকটা ফাঁকা থাকলেও গ্রামমুখী যাতায়াতে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে প্রচণ্ড ভিড় থাকে, তাই আগে থেকে যাতায়াত পরিকল্পনা করা উচিত। মার্চ মাসের আবহাওয়া গরম ও আর্দ্র থাকতে পারে, তাই সুতি কাপড় পরা আরামদায়ক হবে। স্থানীয়দের আমন্ত্রণে ঈদের খাবারে অংশ নেওয়া পর্যটকদের জন্য একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে।

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। রমজান মাস শুরুর আগে থেকেই কেনাকাটা শুরু হয় এবং চাঁদ রাত পর্যন্ত চলে। নতুন পোশাক কেনা ঈদের আনন্দের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন কাপড় বা জুতো কেনার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে ঢাকার গাউছিয়া, নিউ মার্কেট এবং বিভিন্ন শপিং মলগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকে। এছাড়া আতর, টুপি এবং জায়নামাজ কেনাও একটি প্রচলিত রীতি।