Eid ul-Fitr Holiday

Bangladesh • March 21, 2026 • Saturday

77
Days
16
Hours
00
Mins
20
Secs
until Eid ul-Fitr Holiday
Asia/Dhaka timezone

Holiday Details

Holiday Name
Eid ul-Fitr Holiday
Country
Bangladesh
Date
March 21, 2026
Day of Week
Saturday
Status
77 days away
Weekend
Falls on weekend
About this Holiday
Eid ul-Fitr Holiday is a government holiday in Bangladesh

About Eid ul-Fitr Holiday

Also known as: ঈদুল ফিতর

বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর: আনন্দ, ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার মহোৎসব

ঈদুল ফিতর বা "রোজা ভাঙার উৎসব" বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় এবং আনন্দঘন ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা বা রমজানের রোজা রাখার পর এই দিনটি আসে এক পশলা প্রশান্তি আর অবারিত আনন্দ নিয়ে। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি ত্যাগ, সংযম এবং ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন। বাংলাদেশের প্রতিটি শহর, গ্রাম এবং জনপদে এই দিনটি পালিত হয় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে।

ঈদুল ফিতরের মূল নির্যাস হলো আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি। রমজান মাসে মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন, যা তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ধৈর্য শেখায়। ঈদুল ফিতর হলো সেই ধৈর্যের পুরস্কার। এই দিনে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করে এবং একে অপরকে "ঈদ মোবারক" জানিয়ে আলিঙ্গন করে। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ঈদ মানেই হলো প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হওয়া, নতুন পোশাক পরা এবং সুস্বাদু খাবারের আয়োজনে মেতে ওঠা। এই উৎসবটি মানুষের মনের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

2026 সালে ঈদুল ফিতর কবে?

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের তারিখ মূলত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাওয়াল মাসের ১ তারিখে এই উৎসব পালিত হয়। বর্তমান হিসাব এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, 2026 সালে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচী নিচে দেওয়া হলো:

ঈদের দিন: Saturday তারিখ: March 21, 2026 বাকি সময়: আর মাত্র 77 দিন বাকি।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি রমজানের ২৯তম দিনে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসে এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করে। যদি ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা না যায়, তবে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হয় এবং এর পরের দিন ঈদ পালিত হয়। তাই এই তারিখটি একদিন এদিক-সেদিক হতে পারে।

ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য এবং ইতিহাস

ঈদুল ফিতর শব্দের অর্থ হলো ‘ইফতারের উৎসব’ বা ‘রোজা ভাঙার আনন্দ’। ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, নবী মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর এই উৎসবের সূচনা হয়। এর আগে মদিনাবাসী প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী বিভিন্ন উৎসব পালন করত। নবী মুহাম্মদ (সা.) তাদের জন্য দুটি পবিত্র উৎসবের প্রবর্তন করেন—একটি ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি ঈদুল আজহা।

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম হওয়ায় এটি একটি জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই দিনটি কেবল ধর্মীয় আচার-আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি সামাজিক মেলবন্ধনের একটি বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। রমজানের এক মাস মুমিনরা তাদের প্রবৃত্তি দমন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। ঈদুল ফিতরের সকালটি সেই নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের সফল সমাপ্তি হিসেবে উদযাপিত হয়। কোরআন নাজিলের মাস হিসেবে রমজানের যে গুরুত্ব, তার সমাপনী উদযাপন হিসেবেই ঈদুল ফিতরকে দেখা হয়।

বাংলাদেশের ঈদ উদযাপন: প্রস্তুতি ও ঐতিহ্য

বাংলাদেশে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয় রমজান মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই। পুরো মাস জুড়ে চলে কেনাকাটার ধুম।

চাঁদ রাত: আনন্দের শুরু

ঈদের আগের রাতকে বাংলাদেশে ‘চাঁদ রাত’ বলা হয়। যখন পশ্চিম আকাশে শাওয়াল মাসের সরু বাঁকা চাঁদ দেখা যায়, তখন চারদিকে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। রেডিও এবং টেলিভিশনে বেজে ওঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই বিখ্যাত গান— "ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ"। নারী ও শিশুরা হাতে মেহেদি পরে এবং তরুণরা পাড়ায় পাড়ায় আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। এই রাতে বিপণিবিতানগুলো সারা রাত খোলা থাকে এবং শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকে সবাই।

ঈদের সকাল ও নামাজ

ঈদের দিন সকালে পুরুষরা গোসল করে নতুন পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে আতর মেখে ঈদগাহের দিকে রওনা হন। বাংলাদেশে সাধারণত খোলা মাঠে বা বড় ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যাকে ‘ঈদগাহ’ বলা হয়। ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর খুতবা পাঠ করা হয় এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও দেশের কল্যাণে মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন, যা ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে।

খাবারের আয়োজন

বাংলাদেশের ঈদে সেমাই ছাড়া যেন কল্পনাই করা যায় না। বাড়িতে বাড়িতে দুধ সেমাই, লাচ্ছা সেমাই এবং জর্দা তৈরি করা হয়। এছাড়া পোলাও, বিরিয়ানি, মুরগির রোস্ট, রেজালা এবং ফিরনি ঈদের প্রধান আকর্ষণ। আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াত এবং মিষ্টিমুখ করানো একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।

সেলামি ও উপহার

ঈদের দিন বড়দের কাছ থেকে ছোটদের টাকা পাওয়ার প্রথাকে ‘সেলামি’ বলা হয়। নতুন জামা পরে বড়দের পা ছুঁয়ে সালাম করা এবং বিনিময়ে সেলামি নেওয়া শিশুদের জন্য ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। এছাড়া নতুন পোশাক এবং উপহার আদান-প্রদান তো আছেই।

ফিতরা ও দান-সদকা: মানবতার শিক্ষা

ঈদুল ফিতরের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘যাকাতুল ফিতর’ বা ফিতরা। ঈদের নামাজের আগেই এটি গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। এর উদ্দেশ্য হলো, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং তারাও যেন নতুন পোশাক ও ভালো খাবার দিয়ে ঈদ পালন করতে পারে। এই দান-সদকা মানুষের সম্পদকে পবিত্র করে এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পর্যটক এবং প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

আপনি যদি 2026 সালে ঈদুল ফিতরের সময় বাংলাদেশে ভ্রমণ করার পরিকল্পনা করেন, তবে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:

১. যাতায়াত ও ভিড়: ঈদের সময় ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কয়েক মিলিয়ন মানুষ গ্রামে ফিরে যায়। ফলে বাস, ট্রেন এবং লঞ্চে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। আপনি যদি ভ্রমণ করতে চান, তবে অন্তত মাসখানেক আগে টিকিট বুক করে রাখা শ্রেয়। সড়কপথে দীর্ঘ যানজটের সম্ভাবনা থাকে।

২. পোশাক ও আচরণ: বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ এবং ঈদ একটি ধর্মীয় উৎসব। তাই মার্জিত পোশাক পরিধান করা বাঞ্ছনীয়। পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি এবং নারীদের জন্য সালোয়ার কামিজ বা শাড়ি উপযুক্ত। অমুসলিম পর্যটকদের ঈদের জামাত দেখার সুযোগ থাকলেও নামাজের সময় নীরবতা পালন করা এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত।

৩. খাওয়া-দাওয়া: ঈদের দিন এবং এর পরের কয়েক দিন অধিকাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকতে পারে। তবে স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা এতই প্রবল যে, আপনি কোনো বাঙালি পরিবারে আমন্ত্রিত হলে সেখানে রাজকীয় খাবারের স্বাদ পাবেন।

৪. আবহাওয়া: মার্চ মাসে বাংলাদেশে আবহাওয়া সাধারণত উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকে। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে। হালকা সুতির পোশাক সাথে রাখা আরামদায়ক হবে।

৫. নিরাপত্তা: ঈদের ছুটিতে বড় শহরগুলো কিছুটা ফাঁকা হয়ে গেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকে। তবে ভিড়ের মধ্যে পকেটমার বা ছোটখাটো চুরি থেকে সাবধান থাকা ভালো।

এটি কি সরকারি ছুটি?

হ্যাঁ, ঈদুল ফিতর বাংলাদেশে একটি প্রধান জাতীয় সরকারি ছুটি। সাধারণত তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়, তবে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এবং সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলে এটি অনেক সময় ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।

প্রতিষ্ঠান বন্ধ: এই সময়ে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা এবং শেয়ার বাজার বন্ধ থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঈদের আগে থেকেই দীর্ঘ ছুটিতে থাকে। পরিবহন: পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যেমন বাস, ট্রেন এবং ফেরি চলাচল করলেও তা মূলত ঘরমুখো মানুষের চাপে থাকে। ঈদের দিন নির্দিষ্ট সময়ে গণপরিবহন সীমিত হতে পারে।

  • দোকানপাট: ঈদের দিন বড় শপিং মল এবং দোকানগুলো বন্ধ থাকে, তবে দ্বিতীয় দিন থেকে কিছু কিছু খুলতে শুরু করে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর মানেই হলো হৃদয়ের টান এবং শেকড়ে ফেরার আকুতি। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে মানুষ যখন নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে যায়, তখন তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। 2026 সালের ঈদুল ফিতর আপনার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি। আপনি যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, ঈদের এই মহিমা আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করুক।

ঈদ মোবারক!

Frequently Asked Questions

Common questions about Eid ul-Fitr Holiday in Bangladesh

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর আগামী March 21, 2026, Saturday পালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজ থেকে এই উৎসবের আর মাত্র 77 দিন বাকি। তবে মনে রাখবেন, এই তারিখটি সম্পূর্ণভাবে রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত করার পর চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করে, যা অনেক সময় এক দিন আগে বা পরে হতে পারে।

হ্যাঁ, ঈদুল ফিতর বাংলাদেশে একটি প্রধান জাতীয় সরকারি ছুটি। সাধারণত এই উপলক্ষে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শেয়ার বাজার বন্ধ থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে এই ছুটি ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে, যাতে মানুষ পরিবারের সাথে সময় কাটাতে গ্রামে যেতে পারে।

ঈদুল ফিতর বা 'রোজা ভাঙার উৎসব' হলো দীর্ঘ এক মাস রমজানের সিয়াম সাধনা বা রোজা পালনের সমাপ্তি। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। এই দিনটি আধ্যাত্মিক পবিত্রতা, আত্মসংযম এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে পালিত হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, রমজান মাসেই পবিত্র কোরআন প্রথম নাযিল হয়েছিল। বাংলাদেশে এই উৎসবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়, যেখানে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মিলিত হয়।

ঈদের দিনটি শুরু হয় খুব ভোরে নতুন পোশাক পরে বড় বড় খোলা ময়দান বা ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে। নামাজ শেষে সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলি এবং 'ঈদ মোবারক' বিনিময় করেন। এরপর শুরু হয় মিষ্টি মুখ করা। বাড়িতে বাড়িতে সেমাই, পায়েস, পোলাও এবং মাংসের বিভিন্ন পদ রান্না করা হয়। ছোটরা বড়দের সালাম করে 'সালামি' বা ঈদি হিসেবে টাকা গ্রহণ করে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াত এবং উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে দিনটি আনন্দময় হয়ে ওঠে।

রমজান মাসের শেষ সন্ধ্যায় যখন শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা যায়, সেই রাতটিকে বাংলাদেশে 'চাঁদ রাত' বলা হয়। এটি উৎসবের আমেজ শুরু হওয়ার মুহূর্ত। চাঁদ রাতে নারীরা হাতে মেহেদি লাগান এবং শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার জন্য বাজারে প্রচণ্ড ভিড় জমে। মিষ্টির দোকানগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এটি মূলত আনন্দের বার্তা বয়ে আনে যে পরের দিনই ঈদ।

ঈদুল ফিতরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো 'যাকাত আল-ফিতর' বা ফিতরা প্রদান করা। ঈদের নামাজের আগেই সমাজের অভাবী ও দুস্থ মানুষের মাঝে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা খাবার বিতরণ করা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে সমাজের কোনো মানুষ ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং সবাই যেন ভালো খাবার খেয়ে দিনটি উদযাপন করতে পারে।

ঈদের ছুটিতে ঢাকা বা বড় শহরগুলো থেকে লাখ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়ি ফেরে, যার ফলে বাস, ট্রেন এবং লঞ্চে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। আপনি যদি এই সময়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে অনেক আগে থেকে টিকিট বুক করা জরুরি। রাস্তাঘাটে যানজট এবং ফেরি ঘাটে দীর্ঘ অপেক্ষা থাকতে পারে। পর্যটকদের জন্য পরামর্শ হলো, এই সময়ে যাতায়াত এড়িয়ে ঈদের দুই-তিন দিন পর ভ্রমণ করা বেশি আরামদায়ক হবে।

বিদেশি পর্যটক বা অমুসলিমদের জন্য ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের সংস্কৃতি দেখার একটি চমৎকার সুযোগ। স্থানীয়দের 'ঈদ মোবারক' বলে শুভেচ্ছা জানান। ঈদের দিন শালীন ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা বাঞ্ছনীয়। স্থানীয়রা সাধারণত খুব অতিথিপরায়ণ হয় এবং আপনাকে তাদের বাড়িতে মিষ্টি খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে পারে। তবে মনে রাখবেন, ঈদের দিন দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ আংশিক বন্ধ থাকতে পারে, তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা ভালো।

Historical Dates

Eid ul-Fitr Holiday dates in Bangladesh from 2010 to 2025

Year Day of Week Date
2025 Saturday March 29, 2025
2024 Friday April 12, 2024
2023 Thursday April 20, 2023
2022 Monday May 2, 2022
2021 Saturday May 15, 2021
2020 Tuesday May 26, 2020
2019 Tuesday June 4, 2019
2018 Saturday June 16, 2018
2017 Tuesday June 27, 2017
2016 Monday July 4, 2016
2015 Friday July 17, 2015
2014 Tuesday July 29, 2014
2013 Friday August 9, 2013
2012 Monday August 20, 2012
2011 Thursday September 1, 2011
2010 Saturday September 11, 2010

Note: Holiday dates may vary. Some holidays follow lunar calendars or have different observance dates. Purple indicates weekends.